মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত থাকবেন, আর সেখানে আলোচনার জন্ম হবে না—এমনটি যেন হয়ই না। রবিবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

ট্রফি বিতরণ শেষে মঞ্চ ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একাধিকবার অনুরোধ করলেও ট্রাম্প পোডিয়াম ছাড়েননি। এমন দৃশ্য দেখে অনেকের কাছেই মনে হয়েছে, যেন তিনিই চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য।

 

 

১৬ বছর পর বিশ্বজয়ের স্বাদ পেল স্পেন।

দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জয় করে লা রোহা। লামিন ইয়ামাল, পাও কুবারসি, দানি ওলমো ও ফেরান তোরেসদের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্সে স্পেন যোগ্য দল হিসেবেই শিরোপা জিতে নেয়। অন্যদিকে ফাইনালে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে হতাশ করেছে আর্জেন্টিনাও।
একপ্রকার একতরফা ম্যাচেই হার মানতে হয় তাদের।

 

তবে ম্যাচ শেষে শিরোপা উদযাপনের মুহূর্তে তৈরি হয় ভিন্ন এক দৃশ্য। স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন ট্রফি নিয়ে উদযাপনের অপেক্ষায়, তখন ট্রফি তুলে দেওয়ার পরও মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে তিনি খেলোয়াড়দের মাঝখানেই অবস্থান নেন। পরে ফিফার কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান, যেন স্পেনের ফুটবলাররা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করতে পারেন।

ট্রাম্প কিছুটা পাশে সরে দাঁড়ালেও মঞ্চ ছাড়েননি।

 

 

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজেই ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বরং ট্রাম্প খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদযাপনের অংশ হয়ে যান। ট্রফির প্রতি তার বাড়তি আগ্রহও সবার নজর কেড়েছে।

এর আগে ম্যাচ শুরুর সময় ট্রাম্প ভিআইপি বক্সে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর পাশে বসে খেলা উপভোগ করেন। তাকে দেখা মাত্রই গ্যালারির একাংশ থেকে বিদ্রুপধ্বনি শোনা যায়। সেই সময় বিশ্বকাপের ট্রফিটিও তার সামনে নিয়ে আসা হলে তিনি কয়েকবার সেটিতে হাত বুলিয়ে দেখেন।

 

 

তবে ট্রফি বিতরণ মঞ্চে ট্রাম্পের এমন আচরণ এবারই প্রথম নয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেবারও তিনি ট্রফি হাতে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন দল চেলসির খেলোয়াড়দের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন। একপর্যায়ে চেলসির অধিনায়ক রিস জেমস তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।