প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ত্রিশ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার ছয় সপ্তাহ পর এসব নথি প্রকাশ করা হলো। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইনে এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়।
নতুন প্রকাশিত নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম এসেছে কয়েক শত বার। এছাড়া আছে ধনকুবের ইলন মাস্ক, বিল গেটস, রিচার্ড ব্র্যানসনের নাম। নথিতে আছে ট্রাম্পের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
এপস্টেইনের নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে বহুবার।
প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে এফবিআই গত বছর তৈরি করেছিল এমন একটি তালিকাও আছে। এতে ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের কলসেন্টারে কর দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল সেগুলোও রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো অপরাধের কথা অস্বীকার করে আসছেন। এদিকে এপস্টেইনের অপরাধের কোনো ভুক্তভোগীও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ করেননি।
ইলন মাস্ক ও ‘ওয়াইল্ড পার্টি’ প্রসঙ্গ
নথিতে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ইমেইল যোগাযোগও পাওয়া গেছে।
২০১২ সালের এক ইমেইলে মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এপস্টেইন।
মাস্ক উত্তরে বলেন, ‘সম্ভবত শুধু তালুলাহ আর আমি। আপনার দ্বীপে সবচেয়ে উন্মত্ত পার্টি কবে হবে?’
যদিও কোনো প্রমাণ নেই যে মাস্ক কখনো ওই দ্বীপে গিয়েছিলেন। মাস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বিল গেটস!
এপস্টেইন নথিতে একটি খসরা ইমেইলে বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন অভিযোগ তুলেছেন এপস্টেইন।
রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং বিবাহিত নারীদের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কারণে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের বিল গেটস যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে এক ইমেইলে দাবি করেন এপস্টেইন। এমনকি সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের কাছ থেকে এটি গোপন করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকও নাকি চেয়েছিলেন বিল গেটস।
তবে গেটসের মুখপাত্র এই দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘এগুলো একেবারে অযৌক্তিক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এছাড়া, ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসন ও মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায় নথি থেকে। আছে ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের নামও। এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানান প্রিন্স এন্ড্রু। এক রুশ তরুণীর সঙ্গে নৈশভোজের বিষয়েও ইমেইলে কথা হয় দুইজনের।


