NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬ | ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার, সহকর্মীদের নিয়ে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা পরিবেশ মেলার স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, উপহার পেলেন শিশুদের আঁকা ছবি আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হচ্ছেন রাবাব ফাতিমা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র, অভিযুক্ত ৮ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, শেষ বিদায় খামেনিকে মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স প্রকাশ্যে দীপিকার বেবি বাম্প Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী
Logo
logo

ম্যাখোঁর জার্মানি সফরে বার্লিন-প্যারিস সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার আশা


খবর   প্রকাশিত:  ২৭ মে, ২০২৪, ০৬:৩২ পিএম

ম্যাখোঁর জার্মানি সফরে বার্লিন-প্যারিস সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার আশা

জার্মানিতে কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ রাষ্ট্রীয় সফর ছিল ২০০০ সালে, জ্যাক শিরাকের সময়। দুই দেশের মধ্যে অনেক আগে এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে দীর্ঘ বিরতির কোনো রাজনৈতিক কারণ নেই। দুই দেশের সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীরা কয়েক মাস অন্তর নিয়মিত বৈঠক করেন।

তবে বার্লিন ও প্যারিসের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও রয়েছে। রাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জার্মানি সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী।

 

রাষ্ট্রীয় সফরের সময় রাজনীতি নয় বরং দেশের জনগণের সঙ্গে দেখা করাই ফরাসি প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য। এই সফরের মূল ‘হোস্ট’ চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ নন, প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার।

জার্মানি সফরে গিয়ে বার্লিন ছাড়াও ম্যাখোঁ দম্পতি ড্রেসডেন ও ম্যুনস্টারে যাবেন। ম্যুনস্টারে ম্যাখোঁকে ওয়েস্টফালিয়ার আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। এই পুরস্কার তাকেই দেওয়া হয়, যিনি ‘একজন অসামান্য ব্যক্তি ও ফেডারেল ইউরোপে ঐক্য ও শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

 

ইমানুয়েল ও ব্রিজিত ম্যাখোঁর গত বছরের জুলাইয়ে জার্মানিতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ফ্রান্সে অস্থিরতার কারণে প্রেসিডেন্ট তা বাতিল করেন।

ম্যাখোঁর জন্য অবশ্য পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। তবে ইউরোপীয় নির্বাচন দোরগোড়ায়। জরিপ অনুসারে, মারিন লো পেনের ডানপন্থী জনতাবাদী জাতীয় সমাবেশ (রাসেম্বলমেন্ট ন্যাশনাল) ফ্রান্সের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়ে উঠতে পারে।

 

ফেব্রুয়ারিতে ইউরোব্যারোমিটারের জন্য একটি জরিপ ফরাসিদের মধ্যে ইইউ নিয়ে হতাশার কথা বলেছে।

ম্যাখোঁ : ‘ইউরোপের মৃত্যু হতে পারে’
ম্যাখোঁ এক মাস আগে প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের জন্য আরো সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানান।

সেখানে এই কথা বলেন তিনি। তবে এটাই প্রথম নয়, আগেও ম্যাখোঁ ইউরোপের জন্য ‘দুর্দান্ত দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা’ দিয়েছেন। ২০১৭ সালে যখন তিনি ইউরোপীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন তখন তিনি একই সুরে কথা বলেছেন। তারপর তৎকালীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট (সিডিইউ) চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাকে প্রত্যাখ্যান করেন।

 

এবার ওলাফ শোলজ এক্সে ইউরোপের হয়ে বক্তৃতার ‘ভালো দিকগুলোর’ প্রশংসা করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

লুডভিগসবুর্গের ফ্রাংকো-জার্মান ইনস্টিটিউটের পরিচালক মার্ক রিঙ্গেলের মতে, এটা ভিন্ন মানসিকতার ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘ভিশনস’ হলো ‘এমন বিষয়গুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করার ফরাসি উপায়, যা আপনি জার্মান ভাষায় খুঁজে পাবেন না। হেলমুট শ্মিডট একবার বলেছিলেন, ‘যদি আপনার দৃষ্টি থাকে, তবু ডাক্তারের কাছে যান। জার্মানরা ভদ্রভাবে বোঝাতে এমনভাবে বলেন।’

জোটের প্রতি জার্মান আনুগত্য, ফরাসি স্বায়ত্তশাসন
বর্তমানে অনেক বিষয়ে দুই দেশের স্পষ্ট রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে। একদিকে প্যারিস যেমন পারমাণবিক শক্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, অন্যদিকে বার্লিন দেশের শেষ পারমাণবিক চুল্লিটিও বন্ধ করে দিয়েছে। ম্যাখোঁও শোলজের ইউক্রেন যুদ্ধের বাহিনী নিয়েও মতপার্থক্য ছিল। ফ্রাংকো-জার্মান ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানের পরিকল্পনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ম্যাখোঁ চান, জার্মানি তার অস্ত্র পরিকল্পনার জন্য ইউরোপীয়, অন্তত ফরাসি কম্পানিগুলোকে বলুক। অন্যদিকে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রের থেকে কিনতে পেরেই খুশি।

রিঙ্গেল বলেন, ‘প্রতিরক্ষা সব সময় জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে বিতর্কিত বিষয়। কারণ আমাদের আলাদা নিরাপত্তা সংস্কৃতি রয়েছে। জার্মানি ন্যাটোর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। অন্যদিকে ফ্রান্স নিজের জন্য কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দাবি করে।’

ফ্রান্স-জার্মানির পরিস্থিতি
ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট (সিডিইউ) নেতা ফ্রিডরিখ মেয়ার্ৎস সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন ফ্রান্স-জার্মানি সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। মেয়ার্ৎস ইউক্রেনের সমর্থনের ইস্যুতে শোলজ ও ম্যাখোঁর মধ্যে ‘ফাটলের’ কথাও বলেছিলেন।

যা হোক দুই নেতাই অন্তত বহির্বিশ্বকে দেখাতে চান, তারা একে অপরকে বোঝেন। এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তারা একে অপরের ভাষায় কথা বলেছেন। ম্যাখোঁ একজন নাগরিকের একটি প্রশ্ন পড়ে শোনান। ওই নাগরিক জানতে চেয়েছিলেন ফ্রান্স-জার্মানি অংশীদারি এখনো গুরুত্বপূর্ণ কি না। শোলজ ফরাসি ভাষায় এর উত্তর দেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, ফ্রান্স-জার্মান বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী!’ যার জবাবে ম্যাখোঁ জার্মান ভাষায় জবাব দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে ধন্যবাদ, ওলাফ, আমি আপনার সঙ্গে একমত।’

তারুণ্য বিনিময়
রিঙ্গেল মার্চ মাসে ইনফ্রাটেস্ট পরিচালিত সমীক্ষার উদ্ধৃতি দেন। তিনি জানান, ‘সমীক্ষা বলছে কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে ফ্রান্সের প্রতি জার্মানদের সমর্থন অনেক বেশি। ৮০ শতাংশেরও বেশি জার্মান মনে করে, ফ্রান্স একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। অন্য অংশীদারদের তুলনায় ফ্রান্সকে অনেক বেশি সমর্থন করি। ফ্রান্সেও এর প্রতিফলন হয়েছে।’