NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬ | ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
পরিবেশ মেলার স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, উপহার পেলেন শিশুদের আঁকা ছবি আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হচ্ছেন রাবাব ফাতিমা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র, অভিযুক্ত ৮ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, শেষ বিদায় খামেনিকে মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স প্রকাশ্যে দীপিকার বেবি বাম্প Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের
Logo
logo

ভারতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে বলি দেওয়ার অভিযোগ


খবর   প্রকাশিত:  ০১ অক্টোবর, ২০২৪, ০২:২৮ পিএম

ভারতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে বলি দেওয়ার অভিযোগ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ডিএল পাবলিক স্কুলের ১১ বছরের এক আবাসিক ছাত্রকে ‘বলি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্কুলটি। স্কুলের উন্নতির জন্য ‘কালাজাদু’ অনুসরণ করে ওই ছাত্রকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। 

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের রসগাঁওয়া গ্রাম থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে ধান ও বাজরা ক্ষেতের মাঝে অবস্থিত স্কুলের একটি দোতলা ছাত্রাবাস।

ওই স্কুলে ৬০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাঠরতদের মধ্যে ২৫ জন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে থাকত। ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।

 

 স্কুলটি বেআইনিভাবে চালানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসীদের অনেকে মানতে পারছেন না যে ‘একটা ভালো ইংরেজি মাধ্যম এই বিদ্যালয়ে’ এক আবাসিক ছাত্রকে ‘বলি দেওয়া হয়েছে’। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আটকদের মধ্যে রয়েছেন স্কুল ম্যানেজার দীনেশ বাঘেল, তার বাবা যশোধন বাঘেল, প্রিন্সিপাল লক্ষ্মণ সিং এবং স্কুল চত্বরে বসবাসকারী দুই শিক্ষক। আপাতত তারা জেল হেফাজতে রয়েছেন।

 

গ্রেপ্তার হওয়া যশোধন বাঘেল, যিনি ওই অঞ্চলে ‘ভগত জি’ নামে পরিচিত, একসময় ওঝার কাজ করতেন। সাত বছর আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার সময় পর্যন্ত তথাকথিত ‘ঝাড়-ফুঁক’ এবং ‘ভূত তাড়ানোর’ কাজ করেছেন।

এই বিদ্যালয়ের হোস্টেলে আবাসিক ছাত্র ছিলেন কৃতার্থ কুশওয়াহার। শিশুটি দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, ২২-২৩ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রাতে তার এই রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পরদিন সকালে অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর কৃতার্থ কুশওয়াহারের মৃতদেহ স্কুলের ম্যানেজার দীনেশ বাঘেলের গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সেই সময় ছাত্রের পরনে স্কুলের পোশাক ছিল। তার ব্যাগও ওই গাড়ি থেকেই উদ্ধার করা হয়।

 


 

নিহত ছাত্রের গলায় ও ঘাড়ে লাল দাগ ছিল বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্বাসরোধের ফলে মৃত্যু হয়েছে তার। গলার হাড়ও ভাঙা ছিল। সংবাদমাধ্যমকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘স্কুলের উন্নতি এবং সমৃদ্ধির’ জন্য ওই শিশুকে ‘বলি’ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের ওপর ভিত্তি করে এই ঘটনাকে ‘বলি’ বলেই মনে করছে। পুলিশ যশোধন বাঘেলের তান্ত্রিক হওয়া এবং ‘বলির’ সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে, যা অভিযুক্তদের রিমান্ড প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাথরসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার সিং বিবিসিকে বলেন, ‘তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আরো কিছু তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।’

নিহত ছাত্রের বাবা কৃষ্ণা কুশওয়াহা বলেন, ‘আমার ছেলেকে হোস্টেলের মধ্যে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। ওর ঘাড়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। ঠোঁট নীল হয়ে গিয়েছিল। আমি দোষীদের ফাঁসি চাই, বিচার চাই।’

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘২৩ তারিখ বিকেল ৫টায় আমাকে স্কুল থেকে ফোন করা হয়েছিল। তারা জানান, আমার ছেলে খুব অসুস্থ। আমি তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে বলি। কিন্তু তারা রাজি হননি। আমিও বের হয়ে যাই কিন্তু কখনো এক জায়গায় আবার কখনো অন্য জায়গায় আসতে বলছিলেন তারা। আমাকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল। দেড় ঘণ্টা পর দীনেশের কাছে আমার ছেলের নিথর দেহ দেখতে পাই আমি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে খবর দিই আমরা।’

ছাত্রের মা কমলেশ কুশওয়াহা মানসিকভাবে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ছেলের স্কুলের পোশাক দেখাতে গিয়ে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন তিনি।

বাবা কৃষ্ণা কুশওয়াহা জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তিনি জানতে পারেন, ছেলেকে বলি দেওয়া হয়েছে। শোকার্ত এই পিতার প্রশ্ন, ‘আমি একজন বাবা, আমি আমার একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছি। আমার ছেলের কী হয়েছিল সেটা জানাটা আমার অধিকার। কেন তাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো?’ কুশওয়াহা বারবার বলছেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে কিভাবে কেউ বলি দিতে পারে? আমার সন্তানের হত্যার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে, পুরো সত্যিটা বেরিয়ে আসা উচিত।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ছাত্রাবাস ঘিরে এটাই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগেও সেখানকার ছাত্রদের সঙ্গে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিএল পাবলিক স্কুলটি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদের পড়ানোর অনুমতি থাকলেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছিল বলেও অভিযোগ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে ছাত্রাবাস চালানোর জন্যও অনুমতি ছিল না। 

ছাত্রের মৃত্যুর পর হাথরাসের শিক্ষা বিভাগ ওই স্কুলের স্বীকৃতি বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।