NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬ | ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
পরিবেশ মেলার স্টল ঘুরে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী, উপহার পেলেন শিশুদের আঁকা ছবি আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হচ্ছেন রাবাব ফাতিমা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার ষড়যন্ত্র, অভিযুক্ত ৮ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, শেষ বিদায় খামেনিকে মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স প্রকাশ্যে দীপিকার বেবি বাম্প Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের
Logo
logo

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ মার্কিন প্রতিবেদনে, যা বলল দিল্লি


খবর   প্রকাশিত:  ২৫ অক্টোবর, ২০২৪, ০৪:৩২ পিএম

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ মার্কিন প্রতিবেদনে, যা বলল দিল্লি

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্রমশ ‘খর্ব’ হচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ)। সংস্থাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। গত বুধবার তাদের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। 

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে ‘বৈষম্য’ করা হচ্ছে, ছড়ানো হচ্ছে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’।

অভিযোগ তোলা হয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। গত জুনের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ রাজনৈতিক নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ বক্তব্য বেড়ে যায়।

 

এতে আরো বলা হয়, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে মনোনিবেশ করে, যা অন্যায়ভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রভাবিত করে এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস চর্চার ক্ষমতা সীমিত করে দেয়।

ইউএসসিআইআরএফ বলছে, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা ক্রমাগত অবনতিশীল এবং এক উদ্বেগজনক গতিপথ অনুসরণ করছে।

প্রতিবেদনে ভারত সরকারকে ধর্মান্তরবিরোধী, গো-হত্যাবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো আইন ব্যবহারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য দায়ী করা হয়েছে।  

 

এতে ২০২৪ সালের ওয়াকফ সংশোধনী বিলেরও উল্লেখ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ওয়াকফ বোর্ডে (ইসলামিক ট্রাস্ট বোর্ড) অ-মুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রতিবেদনে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং ১৯ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলাসহ গো-রক্ষকদের অনেক হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ১৬১টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।  

গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির ৬০০ বছরের পুরনো আখুন্দজি মসজিদ ভাঙার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো সতর্কতা ছাড়াই এটি ভেঙে ফেলা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কয়েক দিন পর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফর চলাকালেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করল ইউএসসিআইআরএফ।  

 

এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর এবং তাদের উপাসনালয়গুলোতে হিংসাত্মক হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি সেই হামলায় অনেক সময় সরকারি দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও মদদ দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বহু ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন তারা।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় বলা হয়েছে, ইউএসসিআইআরএফ তাদের প্রকাশ করা বার্ষিক রিপোর্টে ভারত সম্পর্কে রীতিমতো উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে আমেরিকার স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে পরামর্শ দিয়েছে। 

তাতে বলা হয়, লাগাতার ধর্মীয় হিংসা চালানোর জন্য ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য ভারতকে যেন ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, স্বরাষ্ট্র দপ্তর এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিশনের এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি।

এদিকে এই প্রতিবেদন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একে পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে ভারত।

এ ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমেরিকার কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের (ইউএসসিআইআরএফ) এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আমাদের মতাদর্শ আগের মতোই। এই সংস্থাটি আসলে পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারতকে নিয়ে এটি ভুল উপস্থাপন করেই যাচ্ছে।’

অন্যদিকে ইউএসসিআইআরএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে, কিভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশানা করতে ভারতের আইনি ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বদলে ফেলা হচ্ছে। যার মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) অন্যতম।’