NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ জাতিসংঘে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও সময়োপযোগী জাতিসংঘ পুলিশ গঠনের আহ্বান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় আন্দোলন : প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের মেজাজ হারিয়ে দলীয় কর্মীদের পেটালেন মমতা বেন স্টোকসের বিদায়ী বার্তা ফাঁস, ইংল্যান্ডকে কাঠগড়ায় তুলল আইসিসি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ : ডা. জুবাইদা রহমান ছবি পোস্ট করে মেলোনিকে আবার খোঁচা ট্রাম্পের
Logo
logo

যেসব কারণে প্রথম দিনই মুলতবি ভারতের শীতকালীন সংসদ অধিবেশন


খবর   প্রকাশিত:  ২৬ নভেম্বর, ২০২৪, ০৩:১৬ পিএম

যেসব কারণে প্রথম দিনই মুলতবি ভারতের শীতকালীন সংসদ অধিবেশন

ভারতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি চলার কথা। কিন্তু প্রথম দিনই বুধবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে দুই কক্ষের অধিবেশন।

বিরোধীরা এদিন প্রথম থেকেই পার্লামেন্টে হৈচৈ শুরু করেন একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানার জন্য এবং তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য।

এই পরিস্থিতিতেই মুলতবি করে দেওয়া হয় অধিবেশন। মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে সরব ছিলেন বিরোধীরা। মণিপুর পরিস্থিতি, ওয়াক্ফ বিল ও আদানি প্রসঙ্গে।

 

অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ছোট ভাষণ দেন।

সেখানে তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন কংগ্রেসকে। বিরোধী এমপিদের নিয়ে তার মন্তব্য, সংসদ যাতে চলতে না পারে, তার জন্য তারা অধিবেশনের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি করেন। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা যায় না বলে অভিযোগ করেন মোদি।

 


 

মহারাষ্ট্র-হরিয়ানার ফলাফল
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে বিজেপি শেষ পর্যন্ত সরকার গড়তে না পারলেও মহারাষ্ট্রে তারা বিরোধীদের কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে বিজেপি যথেষ্ট ভালো ফল করতে পারেনি। ফলে বিরোধীদের অনেকেই ভেবেছিলেন, বিধানসভা ভোটে বিজেপি সেখানে হারবে। কিন্তু বাস্তবে ফল হয়েছে ঠিক তার উল্টো।

 

কিছুদিন আগে হরিয়ানাতেও সরকার গড়েছে বিজেপি।

সেখানেও লোকসভা ভোটে তাদের ফল আশাপ্রদ ছিল না। ফলে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় শক্তি বাড়িয়ে এবারের লোকসভা অধিবেশনে বিজেপি অনেক বেশি সরব থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের ভাষণেও তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

 


 

মণিপুর প্রসঙ্গ
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অশান্ত মণিপুর রাজ্য। সম্প্রতি নতুন করে গোলমাল শুরু হয়েছে সেখানে। আসাম লাগোয়া জিরিবামে একই পরিবারের একাধিক সদস্যর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মেইতেই পরিবারের দুই বছরের শিশুর দেহেও বুলেটের ক্ষত মিলেছে। তার চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মণিপুরে বিজেপির নেতৃত্বে বীরেন সিংয়ের সরকার চলছে। লোকসভার আগের অধিবেশনেও বিরোধীরা বারবার মণিপুর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। এ বছরের অধিবেশনের প্রথম দিনই বিরোধীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, চলতি অধিবেশনেও মণিপুর নিয়ে তারা সরব থাকবেন।

আদানি প্রসঙ্গ
এ ছাড়া শিল্পপতি গৌতম আদানি বর্তমান বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন বিরোধীরা। এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সরব কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ আদানিকে অনৈতিকভাবে সাহায্য করেন বলে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি মার্কিন প্রতিবেদনে আদানির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঘুষ ও জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত আদানি। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। সংসদে এই বিষয়েও বিরোধীরা সরব হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।


 

এদিন পার্লামেন্ট শুরু হওয়ার আগে বিরোধী জোটের বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংসদের সূত্র জানিয়েছে। সরকারকে আদানি প্রসঙ্গে কোণঠাসা করার চেষ্টা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়াকফ ও এক দেশ এক ভোট বিল
অন্যদিকে এবারের সংসদ অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম ওয়াকফ বিল। এই বিল আইনে পরিণত হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ওয়াকফ সম্পত্তির ধারণাটিই বদলে যাবে। ভারতের প্রথম সারির মুসলিম সংগঠনগুলো কয়েক মাস ধরে এই নিয়ে সরব। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই নতুন বিল তারা মেনে নেবে না। সংসদে ওয়াকফ বিল নিয়েও তীব্র বিতর্ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাশাপাশি এবারের অধিবেশনে এক দেশ এক ভোটের বিলও প্রস্তাব আকারে পেশ হতে পারে বলে সংসদের বিশেষ সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হওয়ার প্রস্তাব। বিরোধীরা গোড়া থেকেই এই নীতির বিরোধিতা করছেন। এই বিলটি উত্থাপিত হলেও প্রবল বিতর্ক হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে শাসক গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত এবারের অধিবেশনে বিলটি পেশ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সাংবাদিক জয়ন্ত রায় চৌধুরী বলেন, ‘গত লোকসভা ভোটে বিজেপির ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। ফলে বিরোধীরা খানিকটা অক্সিজেন পেয়েছিলেন। লোকসভাতেও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি রাজ্যে জিতে বিজেপি আবার নতুন করে শক্তি অর্জন করেছে। এবারের লোকসভার অধিবেশনে তাই দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি আরো বাড়ানোর চেষ্টা করবে।’