NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী ‘ইরানি হামলার’ জেরে জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লিগ ট্রাম্পের হুমকির পরপরই পাল্টা সতর্কবার্তা দিল ইরান ‘রোনালদোর চোট ধারণার চেয়েও গুরুতর’ তৃষার সঙ্গে ম্যাচিং পোশাকে বিয়েবাড়িতে বিজয়, ফের আদালতে স্ত্রী রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি যুদ্ধের মধ্যে প্রথম জুমায় খামেনির জন্য ইরানিদের শোক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ আকাশসীমা আংশিক চালু, সীমিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমিরেটস ইরানে হামলা না করার সিদ্ধান্তে অটল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
Logo
logo

যে ৫ অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা


খবর   প্রকাশিত:  ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ এএম

যে ৫ অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা

গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে যে সব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা রয়েছে আটটি। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন এই পাঁচ মামলার একটি—শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা দ্বিতীয় মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামি করা হয়েছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক দেখানো হয়েছে। মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ বছরের ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’, ‘রাজাকারের নাতি–পুতি’ বলে উল্লেখ করেন। ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সশস্ত্র ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী’ ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দেন। এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এতে অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। 

 

 

তৃতীয় অভিযোগটি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যাকে কেন্দ্র করে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করে।

পঞ্চম অভিযোগে আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে তিন আসামির বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই মামলায় আন্দোলনকারীরা, আহত ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও–ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দ করা গুলি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।