ফ্রান্সজুড়ে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ঘটনায় মঙ্গলবার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
খবর প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ এএম

ফ্রান্সজুড়ে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ঘটনায় মঙ্গলবার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
বিবিসি জানায়, প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কয়েক দিন ধরে চলছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষে জায়গার সংকট এবং শিক্ষকের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তারা বিক্ষোভ করছে।
১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখানে একটি বার্তা দিতে এসেছি। কোনো কারণ ছাড়াই সবকিছু ভাঙচুর করতে আসিনি। আমরা বলতে এসেছি, শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আমাদের প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন শিক্ষার্থী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার আছে। তবে সহিংসতার খবরের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনা ‘কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না’।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিকে বলেন, ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আমাকে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’ ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মেরেছে। জবাবে পুলিশ লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে বলেন, ফরাসি সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর ‘দমন-পীড়ন’ চালাচ্ছে। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের অভিযোগও করেন।
বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নুনেজ বলেন, এ নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও পুলিশের পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে’ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে বলেন, ‘বিক্ষোভ করার অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে এই অধিকারকে এমন কর্মকাণ্ডের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া বা এই পরিস্থিতিতে স্কুল অবরোধ আরো বাড়ানোর আহ্বান জানানো আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সরকারি কর্মীদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।’ ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ শ্রেণি ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চবিদ্যালয়ের সমপর্যায়ের এসব স্কুলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরো ছড়িয়ে পড়া ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হবে। এর আগে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিক্ষোভের বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে লেকর্নু বলেন, ‘উচ্চ বিদ্যালয়ের আশপাশে আতশবাজি, আগুন ও সহিংসতা—কোনো কিছুই শিক্ষার্থী, স্কুলের কর্মী বা পুলিশ কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলার কারণ হতে পারে না।’
মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটও পালিত হয়। শিক্ষক, হাসপাতালের কর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলো এই ধর্মঘট ডাকে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে তারা কাজে যোগ দেননি। নুনেজ বলেন, এসব ধর্মঘটে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বেশির ভাগ জায়গায় এসব কর্মসূচি কোনো বড় ধরনের ঘটনা ছাড়াই হয়েছে।