যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে জায়নবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের দলীয় সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
খবর প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ এএম

যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে জায়নবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের দলীয় সম্মেলনে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, রবিবার প্রকাশিত দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবের পক্ষে ১ হাজার ২২টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮১৩টি। প্রস্তাবে জায়নবাদকে একটি ‘ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
জায়নবাদ একটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে এ আন্দোলনের শুরু হয়। এর লক্ষ্য ছিল ইহুদিদের জন্য একটি নিজস্ব আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করা এবং সেটিকে সমর্থন করা।
নতুন নীতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছে গ্রিন পার্টি। দলটি ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, ইসরায়েলকে বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আন্দোলন এবং ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সমর্থন জানিয়েছে।
এ ছাড়া জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে দলটি। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডজুড়ে একটি একক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানানো হয়েছে। গ্রিন পার্টির এক মুখপাত্র বলেন, দলের সদস্যদের মধ্যে গুরুতর ও দীর্ঘ বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের সদস্যরা নীতিনির্ধারণ ও তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগকে গুরুত্ব দেন। সম্মেলনে এখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটি জানিয়েছে, তাদের এই অবস্থানের ভিত্তি হলো—বর্ণবাদের বিরোধিতা এবং সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি সমর্থন।
মুখপাত্র বলেন, গ্রিন পার্টি একটি বর্ণবাদবিরোধী দল। ফিলিস্তিনি ও সিরীয় ভূখণ্ডের অবৈধ দখলের বিরোধিতা করে দলটি। ইসরায়েল সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও দলটি কথা বলেছে বলে জানান তিনি।
তবে গ্রিন পার্টির নতুন অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গ্রিন পার্টির প্রস্তাবে জায়নবাদকে বর্ণবাদের সঙ্গে এক করে দেখা হয়েছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘নদী থেকে সাগর পর্যন্ত’ একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েল বলেছে, এর অর্থ হলো দেশটিকে ধ্বংস করার আহ্বান জানানো। আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ জোটের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তারা প্রস্তাবটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে মনে করে। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবটি ইহুদিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকার করছে।
এরপর ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিকে ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।