বাংলাদেশ
নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজের চুক্তি বিমানের-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ বিমান (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার এ চুক্তি ঘোষণা করা হয়। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্ডারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে বিমানের ঘোষিত বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টি।
নিউইয়র্কে চুক্তি স্বাক্ষর
নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা চুক্তি সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে বিমানের পক্ষে চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের পক্ষে কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং বোয়িংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাদী আমিন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বোয়িংয়ের সেলস ডিরেক্টর কান্থি ভূবনাগিরি এবং ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি।
বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন এই চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। বোয়িং জানিয়েছে, নতুন ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো বিমানের সিঙ্গেল-আইল বহরে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও দূরপাল্লার সুবিধা দেবে। অন্যদিকে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭ বহরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক রুটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে। বোয়িংয়ের দাবি, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো প্রতিস্থাপিত উড়োজাহাজের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
বিমানের নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর আলোচনার মধ্যেই হলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বিমানের ঘোষিত বোয়িং অর্ডারের সংখ্যা ২৫টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিটি বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে কোনো সরকারি চুক্তি নয়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের পরিকল্পনা
চলতি বছর ঘোষিত দুটি অর্ডার মিলিয়ে বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনায় রয়েছে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ড্রিমলাইনারের পাশাপাশি ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের উড়োজাহাজ। বিমান কর্তৃপক্ষের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
ভিসা জালিয়াতির তথ্য জানাতে অনলাইন পোর্টাল চালু করল যুক্তরাষ্ট্র-শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহার শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের জন্য একটি অনলাইন তথ্য দেওয়ার পোর্টাল চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভিসা-সংক্রান্ত জালিয়াতি শনাক্ত ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য হলো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ও সহজভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতির মধ্যে জাল বা পরিবর্তিত নথি ও ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যবহার, ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে আবেদন, মিথ্যা চাকরির প্রস্তাব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর মতো কর্মকাণ্ড থাকতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসা আবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ ধরনের প্রতারণা বা ভুল তথ্যের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ভিসার অযোগ্যতা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা বা পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্য থাকলে তা জানানোর সময় সংশ্লিষ্ট আবেদন বা ঘটনার যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তা তদন্ত ও মূল্যায়নে সহায়ক হবে। বিদেশে কোনো মার্কিন ভিসা আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কাছেও তা জানানো যায়। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যের জন্য আবেদনকারীদের শুধুমাত্র সরকারি .gov ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্র
জন্ম পর্যটন ঠেকাতে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের-শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি : যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটন পরিচালনা ও এতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, বিদেশি বাণিজ্যিক জন্ম পর্যটন নেটওয়ার্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ব্যবসা করছে। এসব নেটওয়ার্ক বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে প্রশিক্ষণ দেয় এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নতুন নীতিটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের (INA) ধারা 212(a)(3)(C)-এর অধীনে কার্যকর করা হচ্ছে। এর আওতায় যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক জন্ম পর্যটনে যুক্ত বা এতে সহায়তা করেন, তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
নীতিটির আওতায় বিশেষভাবে বাণিজ্যিক জন্ম পর্যটন নেটওয়ার্কের মালিক, পরিচালনাকারী ও ব্যবস্থাপক; ভিসা আবেদনকারীদের প্রতারণা করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া ‘ভিসা ফিক্সার’; এবং জেনেশুনে এ ধরনের ভ্রমণ ও মেডিকেইড ব্যবস্থার অপব্যবহারে সহায়তাকারী বিদেশি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রুবিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অখণ্ডতা রক্ষা, সরকারি সুবিধা ও মার্কিন করদাতাদের সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ভিজিটর ভিসার অনুমোদিত উদ্দেশ্য নয়।
রুবিওর ঘোষিত নতুন নীতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিতে ভ্রমণকারীদের নয়, বরং এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন বা সহায়তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন বিধিনিষেধের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সদস্যও পড়তে পারেন। তবে এটি মার্কিন নাগরিকত্বের আইন পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং জন্ম পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের একটি ব্যবস্থা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা আবেদনকারীদের স্ক্রিনিং ও ভেটিং আরও বিস্তৃত করেছে। ১ অক্টোবর থেকে আরও কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শ্রেণিতে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
নিউইয়র্কে ৫৭ দেশের অংশগ্রহণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ সম্প্রসারণ করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মঙ্গলবার নিউইয়র্কের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে ৫৭টি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তার ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরেছেন। শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা ও অনলাইন নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠানে নতুন বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব এবং ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে গঠিত আন্তর্জাতিক জোটটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে নতুন সদস্য দেশকে স্বাগত জানানো, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসূচির ক্যালেন্ডার তুলে ধরার কথা ছিল।
‘শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে’: মেলানিয়া ট্রাম্প
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মেলানিয়া ট্রাম্প শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ যেন শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কাজে আসে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “সত্যিকারের ক্ষমতায়ন শুরু হয় একটি শিশুকে এই আত্মবিশ্বাস দেওয়ার মাধ্যমে যে তার চিন্তার মূল্য রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শিশুদের এমন স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের পরিচিত জগতের বাইরেও একটি ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পারে।
মেলানিয়া বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিশুদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের চারটি প্রধান ক্ষেত্র হলো—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), শিক্ষাপ্রযুক্তি (EdTech), অনলাইন সুরক্ষা এবং ডিজিটাল দক্ষতা। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও সমপর্যায়ের নেতারা নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে কাজ করে শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহায়তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষার উপায় নিয়ে কাজ করছেন।
মেলানিয়া ট্রাম্প এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, উদ্যোগটির প্রথম G20 সম্মেলন ডিসেম্বরে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেলানিয়া অংশগ্রহণকারী নেতাদের আলোচনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইতিহাস যেন মনে রাখে—অসাধারণ সম্ভাবনার এক সময়ে বিশ্বের নেতারা একত্রিত হয়ে শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
বক্তব্য দেন মাইকেল ওয়াল্টজ ও চ্যারিটি ওয়ালেস
অনুষ্ঠানের তালিকাভুক্ত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেশাল এনভয় ফর বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ চ্যারিটি ওয়ালেস। ওয়াল্টজ মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু সচেতনতা তৈরি করা নয়, বরং এর উদ্দেশ্যকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়া।
চ্যারিটি ওয়ালেসও উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত মার্কিন সরকারের কার্যক্রম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সোমবার তার আয়োজনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নতুন সাতটি প্রযুক্তি-খাতের অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়।
সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন অংশীদারিত্ব
‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’-এর আওতায় Adobe, Amazon, Google, Intel, N50, Starlink এবং Zoom-এর সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব অংশীদারিত্ব ১৫টিরও বেশি দেশের সঙ্গে যুক্ত এবং শিশু ও তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে Google-এর ৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে Google AI Educator Series সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া Zoom-এর AI for Good উদ্যোগের আওতায় নতুন করে ২ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। অন্য অংশীদারিত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, কোডিং, ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের বিভিন্ন কর্মসূচি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউসদের অংশগ্রহণ
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে জোটের ৫৭ সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এই জোটে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পানামা, ফিলিপাইন, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, ইসরায়েল, মরক্কো, কেনিয়া, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউসরা যুক্ত রয়েছেন।
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানের সঙ্গী মিরাবেলা গ্রাদিনারু-র উপস্থিতির কথা রোমানিয়ার সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কেনিয়ার ফার্স্ট লেডি র্যাচেল রুটোর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন বলে ওইসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ৫৭ সদস্য দেশের সংখ্যা পুরো জোটের সদস্যসংখ্যা বোঝায়; নিউইয়র্কের সেন্ট রেজিস অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
৪৫ দেশ থেকে ৫৭ দেশে সম্প্রসারণ
মার্চে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলনের পর ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মার্চ ২০২৬ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে ৪৫টি দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও সমপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে শিক্ষাপ্রযুক্তি, শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সাক্ষরতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে মেলানিয়া ট্রাম্প ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন। উদ্যোগটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো শিক্ষা, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল যুগে শিশুদের বিকাশে সহায়তা করা এবং অনলাইন ঝুঁকি থেকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা
‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগে বাংলাদেশও অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান মার্চে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নেন। ওই সম্মেলনে জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে পরিবার ও শিশুদের সহায়তায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনে জুবাইদা রহমান মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন পর্ব
নিউইয়র্কের এই আয়োজন শিশুদের শিক্ষা ও ডিজিটাল উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর উদ্যোগটির বাড়তে থাকা গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও সমপর্যায়ের নেতারা নিজ নিজ সরকারের সঙ্গে কাজ করে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষার পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন।
৫৭টি দেশের সদস্যপদ এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারদের যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ এখন এর প্রাথমিক সম্মেলন পর্যায় থেকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। আগামী মাসগুলোতে আরও আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মায়ামিতে G20-সংক্রান্ত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ
জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক - প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, তারেক রহমান আজ স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ এ অধিবেশনে যোগ দেন। সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের আসনগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো থাকায় বি আদ্যাক্ষরের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রথম সারিতে আসন পায়।
অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। মিলনায়তনে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি আসন গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন।
এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থায় তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণটি তিনি বাংলায় দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন।
যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শিশুদের প্রযুক্তি শিক্ষায় বৈশ্বিক জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা মেলানিয়ার-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক — শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে নিজের উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ জোটের সদস্যদেশের সংখ্যা ৫৭টিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কর্মসূচি এবং প্রযুক্তি খাতের নতুন অংশীদারিত্বের কথা জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী এক আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও প্রতিনিধিদের নিয়ে জোটটির সদস্যদের পুনরায় একত্র করেন মেলানিয়া।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, ইউক্রেন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পানামা ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “আমরা সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক সুন্দর বৈচিত্র্য। তবু একটি চিরন্তন সত্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ—আজ আমরা আমাদের শিশুদের জন্য যা করব, তার ওপরই আমাদের বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।”
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মেলানিয়া ট্রাম্প Fostering the Future Together উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর লক্ষ্য শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার সুযোগ বাড়ানো। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটির আওতায় শিশু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অনলাইন ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটনে জোটটির প্রথম দুই দিনের বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪৫টি দেশের ফার্স্ট স্পাউস বা সমপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল কোনো মার্কিন ফার্স্ট লেডির আয়োজনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এ ধরনের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশ।
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ২০২৬ সালের কয়েকটি নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে ডিসেম্বরে মিয়ামিতে তার আয়োজনে জি২০-সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান, ফিলিপাইনের ফার্স্ট লেডি লিজা আরানেতা মার্কোসের আয়োজনে ম্যানিলায় আসিয়ান সম্মেলন, পোল্যান্ডের ফার্স্ট লেডি মার্তা নাভরোক্কার আয়োজনে ইউরোপীয় আঞ্চলিক বৈঠক এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের ফার্স্ট লেডি দিয়ানি প্রিন্স-ড্রুর আয়োজনে ক্যারিবীয় আঞ্চলিক সম্মেলন।
মেলানিয়া বলেন, “যখন দেশগুলো এক কণ্ঠে কথা বলে, বিশ্ব তখন তা শোনে। আমাদের সম্মিলিত প্রভাব গভীর। আমরা একসঙ্গে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারি, বাজারে পরিবর্তন আনতে পারি, নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমরা মানুষের জীবনকে আরও ভালোভাবে বদলে দিতে পারি।”
প্রযুক্তি খাতের সঙ্গেও জোটটির নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, Adobe, Amazon, Google, Intel, N50, Starlink এবং Zoom—এই সাতটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ১৫টির বেশি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশু ও তরুণদের শিক্ষা এবং প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। Amazon আলাদাভাবে জানিয়েছে, তারা জোটটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে।
মেলানিয়া বলেন, শুধু প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; শিশুদের এসব প্রযুক্তি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও দিতে হবে। তিনি বলেন, “শুধু প্রবেশাধিকারই ক্ষমতায়ন নয়। আমাদের শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দিতে হবে এবং সেই প্রযুক্তি কীভাবে বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, তা শেখাতে হবে।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভিডিও যোগাযোগ, মোবাইল কম্পিউটিং, চালকবিহীন গাড়ি, ভার্চুয়াল জগত এবং বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে, বক্তৃতায় তার উদাহরণ দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, Fostering the Future Together উদ্যোগের চারটি প্রধান ক্ষেত্র হলো—শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, এডটেক বা শিক্ষা প্রযুক্তি, অনলাইন সুরক্ষা এবং ডিজিটাল দক্ষতা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মেলানিয়া। তিনি বলেন, “বহু বছর পর আমাদের শিশুরা হয়তো আমরা কোন বৈঠক করেছি বা কী বক্তব্য দিয়েছি তা মনে রাখবে না। কিন্তু আমরা এখানে যা করছি, তার পরিণতি তাদের জীবনকে প্রভাবিত করবে।”
তরুণদের কল্পনার সীমানা বাড়ানো, জ্ঞানের নতুন দিগন্ত অনুসন্ধান, হিসাব করে ঝুঁকি নেওয়া এবং সমাজের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার মতো সক্ষমতা গড়ে তুলতে এই জোট কাজ করবে বলেও জানান তিনি। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, Fostering the Future Together-এ সদস্য হওয়ার জন্য কোনো ফি নেই। তবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ভ্রমণসহ পরোক্ষ ব্যয় বহন করবে।
সম্পাদকীয়
কিশোর গ্যাং নয়, অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে-ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, আধিপত্য বিস্তার কিংবা হত্যাকাণ্ড—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব অপরাধের সঙ্গে এখন প্রায়ই শোনা যায় ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি। একসময় পাড়া-মহল্লার সন্ত্রাসী বাহিনী যে জায়গা দখল করেছিল, অনেক ক্ষেত্রে সেই জায়গাতেই এখন দেখা যাচ্ছে কিশোর ও তরুণদের ছোট ছোট গ্রুপ। তবে সমস্যাটিকে শুধু ‘কিশোরদের অপরাধ’ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে। কারণ এসব গ্রুপের পেছনে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কোনো স্বার্থগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও বারবার সামনে আসে।
উত্তরায় আদনান কবীর হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীতে কিশোর গ্যাং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, ততই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অপরাধী গ্রুপের অস্তিত্বের খবর পাওয়া গেছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের বন্ধুত্ব, আড্ডা কিংবা দলবদ্ধ চলাফেরা থেকে শুরু হওয়া একটি গ্রুপ কীভাবে ধীরে ধীরে অপরাধী চক্রে পরিণত হয়, তার ভয়াবহ উদাহরণও কম নয়। একপর্যায়ে ছিনতাই বা ছোটখাটো মারামারি পেরিয়ে কেউ কেউ মাদক, অস্ত্র এবং হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এখানেই রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। একটি কিশোর যখন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তখন শুধু তাকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। প্রশ্ন করতে হবে—সে অস্ত্র পেল কোথা থেকে, মাদক পেল কার কাছ থেকে, অপরাধের প্রশিক্ষণ বা সাহস পেল কীভাবে, আর তার পেছনে কে ছিল? একজন কিশোর অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা জরুরি; কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো সেই প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করা, যারা কিশোরদের ব্যবহার করে নিজেদের অপরাধের পরিধি বাড়ায়।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের আরেকটি বড় কারণ মাদকের সহজলভ্যতা। মাদক যখন একটি এলাকার সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পারিবারিক নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধের চর্চার ঘাটতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীসুলভ ‘হিরোইজম’ প্রদর্শনের প্রবণতা এবং সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগের সংকট। ফলে একটি স্বাভাবিক বন্ধুত্বের দলও কখনো কখনো অপরাধের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে কার্যকর অভিযান এবং পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা—সবই জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার পথও গ্রহণযোগ্য নয়। যারা সংশোধনের সুযোগ পাওয়ার উপযুক্ত, তাদের জন্য কাউন্সেলিং, পরিবারভিত্তিক পুনর্বাসন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কিশোর গ্যাংকে বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত পুরো অপরাধ-অর্থনীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার কাঠামোকে মোকাবিলা করা। পুলিশ একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব—সব পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
একটি কিশোরের হাতে অস্ত্র ওঠার পর তাকে গ্রেপ্তার করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; কিন্তু সেই অস্ত্র তার হাতে ওঠার আগেই তাকে থামানো পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব। আর যে ব্যক্তি বা চক্র তাকে অস্ত্র তুলে দেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা আইনের দায়িত্ব।
তাই ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি নিয়ে শুধু আতঙ্ক বা আলোচনা নয়—প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ। কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, আর অপরাধীদের কিশোরদের ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। কিশোরদের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং সমাজের নিরাপত্তা—দুটিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
এআই, ড্রোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা, সতর্ক জাতিসংঘ-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের কার্যক্রমের ধরন দ্রুত পরিবর্তন করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের পরিবর্তিত চিত্র এবং উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, ২০০১ সালের পর সন্ত্রাসী হুমকির ধরন যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, তেমনি প্রযুক্তির অগ্রগতিও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ভার্চুয়াল স্পেস ব্যবহার করে সমর্থক খোঁজা, প্রচারণা চালানো এবং বিশেষ করে তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম কমিটির নির্বাহী অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রচারণা ও নিয়োগ কার্যক্রমকে আরও দ্রুত এবং বিস্তৃত করতে সহায়তা করতে পারে।
এআই ও অনলাইন প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এআই ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, ডিপফেক এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া উগ্রবাদী প্রচারণা অনলাইন পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে। এ ছাড়া এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা এবং অনলাইন আর্থিক সেবার অপব্যবহারও সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ড্রোন ব্যবহারে নতুন ঝুঁকি
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন বা আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম (UAS) ব্যবহারের বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম কমিটির নির্বাহী অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম তাদের কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে। কিছু অঞ্চলে দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এ ধরনের প্রযুক্তি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম কার্যক্রমে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে এআই, ভার্চুয়াল সম্পদ, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ড্রোনসহ উদীয়মান প্রযুক্তির সন্ত্রাসী অপব্যবহার মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান
জাতিসংঘ বলেছে, পরিবর্তিত সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার শনাক্ত ও প্রতিরোধে দেশগুলোর সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশ্ব সংবাদ
রাশিয়ায় সামরিক ড্রোন তৈরিতে উত্তর কোরীয় শ্রমিক: এমএসএমটি-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া এখনো বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে বিদেশে পাঠাচ্ছে। এসব শ্রমিকের একটি অংশ রাশিয়ার মাটিতে সামরিক ড্রোনসহ প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনে কাজ করছে বলে জানিয়েছে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)। বুধবার প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT) জানিয়েছে, বর্তমানে আনুমানিক ৩৫ হাজার ৬০০ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২৮০ জন উত্তর কোরীয় শ্রমিক বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের প্রায় সবাই চীন ও রাশিয়ায় কর্মরত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে কর্মরত উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে আনুমানিক ৪৫০ মিলিয়ন থেকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)-এর দাবি, এই অর্থ উত্তর কোরিয়ার অবৈধ পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চীন ও রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি শ্রমিক
মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)-এর হিসাবে, চীনে বর্তমানে ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার উত্তর কোরীয় শ্রমিক কাজ করছেন। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার শ্রমিক সাময়িকভাবে উত্তর কোরিয়ায় ফেরত গেলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চীনে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক প্রবেশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়াতেও উত্তর কোরীয় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় শ্রমিক ছিলেন বলে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT) অনুমান করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় অবস্থানরত কিছু উত্তর কোরীয় শ্রমিক সামরিক ড্রোন তৈরিসহ প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন। রাশিয়ার মাটিতে অবস্থিত ড্রোন কারখানাতেও উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের কাজ করার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের রাশিয়ায় শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানোর জন্য একটি স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT) মনে করে।
আয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ে নেয় উত্তর কোরিয়া
মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)-এর দাবি, বিদেশে কর্মরত উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের উপার্জনের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ নিয়ে নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যে অর্থ নিয়ে নেয়, তা শ্রমিকের প্রকৃত উপার্জনের চেয়েও বেশি হয়ে যায় এবং এতে শ্রমিকরা উত্তর কোরিয়ার কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকদের চলাফেরা ও বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপরও উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। কোনো শ্রমিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তর কোরিয়ায় থাকা তার পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ায় কর্মরত একজন উত্তর কোরীয় শ্রমিক বছরে গড়ে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ডলার আয় করেন বলে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)-এর হিসাব। শিল্পভেদে রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের মাসিক আয় চীনে কর্মরত শ্রমিকদের তুলনায় সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২০১৯ সালের প্রত্যাবাসন বাধ্যবাধকতা
২০১৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরীয় নাগরিকদের বিদেশে আয় করার সুযোগ বন্ধে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে আয় করা উত্তর কোরীয় নাগরিকদের ২০১৯ সালের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও ছিল। তবে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT) বলছে, সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অন্তত ১৭টি দেশ এখনো উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের অবস্থানের অনুমতি দিয়ে যাচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেল পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান
উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে থাকা নিরাপত্তা পরিষদের ১৭১৮ কমিটির বিশেষজ্ঞ প্যানেল ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিলুপ্ত হয়। ২০২৪ সালের মার্চে প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে রাশিয়ার ভেটোর পর সেটি আর কার্যকর থাকেনি। মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT) জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ প্যানেল বিলুপ্ত হওয়ার পর যে পর্যবেক্ষণ-ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তাদের নতুন প্রতিবেদন সেই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ করতে সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আগের মতো একই শক্তি ও কাঠামোতে বিশেষজ্ঞ প্যানেল পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে মাল্টিল্যাটারাল স্যাংশনস মনিটরিং টিম (MSMT)। সংস্থাটি বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা প্রকাশ করা অব্যাহত রাখবে তারা।
বিশ্ব সংবাদ
যুক্তরাজ্য কি ভাঙনের পথে? আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে একই মঞ্চে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড-শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক — যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একই মঞ্চে দাঁড়িয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে তিন অঞ্চলের নেতারা একটি যৌথ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে নিজেদের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এই বৈঠক যুক্তরাজ্য ভেঙে যাওয়ার কোনো ঘোষণা নয়। কোনো স্বাধীনতা বা একীভূতকরণ গণভোটের তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। বরং যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, তিন অঞ্চলের সাংবিধানিক পরিস্থিতি এক নয় এবং প্রত্যেক জাতি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের পদ্ধতিতে ও নিজেদের সময় অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। ফলে কার্ডিফের বৈঠককে তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদের ঘোষণা হিসেবে নয়, বরং লন্ডনের ওপর একটি সমন্বিত রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, “আমাদের জাতিগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে” এবং জনগণই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নেতারা যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
কার্ডিফের বৈঠকে স্কটল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও স্কটিশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা জন সুইনি, ওয়েলসের প্রথম মন্ত্রী ও প্লেইড কামরির নেতা রুন আপ আইওরওয়ার্থ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী ও সিন ফেইন নেতা মিশেল ও'নিল অংশ নেন। সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও এই উদ্যোগে যুক্ত হন। তিন অঞ্চলের রাজনৈতিক লক্ষ্য এক নয়, কিন্তু একটি বিষয়ে তাদের অবস্থান অভিন্ন—নিজ নিজ জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার থাকতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এই সমন্বয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি বহুদিনের এবং নতুন গণভোটের প্রস্তুতি চলছে। ওয়েলসে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও তরুণদের মধ্যে তা তুলনামূলকভাবে বেশি। আর উত্তর আয়ারল্যান্ডে মূল প্রশ্ন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন নয়; বরং যুক্তরাজ্যের অংশ থাকা, নাকি আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠন করা। অর্থাৎ তিন অঞ্চলের গন্তব্য এক নয়—কিন্তু লন্ডনের সঙ্গে বর্তমান সাংবিধানিক সম্পর্ক নিয়ে তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডে নতুন স্বাধীনতা গণভোটের প্রস্তুতি
তিন অঞ্চলের মধ্যে স্কটল্যান্ডই স্বাধীনতার প্রশ্নে সবচেয়ে এগিয়ে। ২০১৪ সালে দেশটিতে স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সেই পরাজয়ের পরও স্বাধীনতার দাবি রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে যায়নি। বরং ২০২৬ সালে বিষয়টি আবারও স্কটিশ রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট স্কটিশ সরকার নতুন স্বাধীনতা গণভোট বিলের খসড়া প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত গণভোটের প্রশ্ন হবে—“স্কটল্যান্ড কি একটি স্বাধীন দেশ হওয়া উচিত?” খসড়া আইনে গণভোটের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে খসড়া বিল প্রকাশ করা মানেই গণভোট আয়োজনের আইনি ক্ষমতা পাওয়া নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল, যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া স্কটিশ পার্লামেন্ট একতরফাভাবে স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের জন্য আইন করতে পারে না। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তার সাংবিধানিক সম্পর্কের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের সংরক্ষিত ক্ষমতার আওতায় পড়ে।
ফলে স্কটল্যান্ডের সামনে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—গণভোটের রাজনৈতিক দাবি থাকলেও সেই ভোট আয়োজনের সাংবিধানিক ক্ষমতা কীভাবে নিশ্চিত হবে? স্কটিশ প্রথম মন্ত্রী জন সুইনি ইতোমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে চিঠি লিখে এই রাজনৈতিক দাবিকে আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুইনির বক্তব্য, স্কটল্যান্ডের জনগণের নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে বাস্তব আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়া দরকার।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রশ্ন—ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড
উত্তর আয়ারল্যান্ডের পরিস্থিতি স্কটল্যান্ডের চেয়ে ভিন্ন এবং কিছু দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রশ্নটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন নয়। মূল প্রশ্ন হলো—উত্তর আয়ারল্যান্ড কি যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে, নাকি আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠন করবে?
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি (গুড ফ্রাইডে চুক্তি) এই প্রশ্নের জন্য একটি সাংবিধানিক পথ তৈরি করে রেখেছে। জনমত এমন পর্যায়ে পৌঁছালে যে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে মনে হয়, তখন উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রীর ওপর গণভোটের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আসতে পারে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি বলেছেন, ভবিষ্যতে একটি সীমান্ত গণভোট হবে এবং যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড—দুই দেশকেই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি গুড ফ্রাইডে চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, তিনি উত্তর ও দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডকে একীভূত হতে দেখতে চান এবং শেষ পর্যন্ত এমনটি ঘটবে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর লন্ডন অবশ্য অবস্থান পরিষ্কার করেছে—বর্তমানে উত্তর আয়ারল্যান্ডে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে গণভোট করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানও পরিবর্তন হয়নি।
তাই ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হিসেবে না দেখে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে অবশ্যই নতুন গুরুত্ব দিয়েছে।
ওয়েলসে স্বাধীনতার প্রশ্ন
স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের তুলনায় ওয়েলস এখনো স্বাধীনতার প্রশ্নে অনেক পিছিয়ে। তবে বিষয়টি আর প্রান্তিক রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক একটি জরিপে ১ হাজার ২৩ জন ওয়েলশ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। সম্ভাব্য স্বাধীনতা গণভোটের প্রশ্নে ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাধীনতার পক্ষে এবং ৬৮ শতাংশ বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। জরিপটি ১৩ থেকে ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
তবে বয়সভেদে চিত্রটি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন ছিল ৫৯ শতাংশ। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সে তা ৫৪ শতাংশ এবং ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সে ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতার প্রশ্নে সমর্থন সামগ্রিক জনমতের তুলনায় অনেক বেশি। এ থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, ওয়েলসে স্বাধীনতার প্রশ্নটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমান জনমতে স্বাধীনতার পক্ষে এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
লন্ডনের জন্য নতুন সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ
তিন অঞ্চলের এই সমন্বিত অবস্থান ব্রিটিশ সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার এখনো যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জনসেবার মতো বাস্তব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
কিন্তু বিরোধটি এখন আর শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্কটল্যান্ড ইতোমধ্যে নতুন স্বাধীনতা গণভোটের খসড়া প্রকাশ করেছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে গণভোটের একটি বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা রয়েছে। আর ওয়েলসে স্বাধীনতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা যাচ্ছে।
ফলে প্রশ্ন এখন শুধু—“যুক্তরাজ্য কি ভেঙে যাবে?”—এমন নয়। বরং বড় প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো একটি অঞ্চলের জনগণের একটি বড় অংশ যদি সাংবিধানিক পরিবর্তন দাবি করে, তাহলে লন্ডন কতদিন সেই দাবিকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে?
সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে তিনটি আলাদা সাংবিধানিক পথ সামনে আসে। প্রথমত, উত্তর আয়ারল্যান্ড। এখানে সীমান্ত গণভোটের একটি স্বীকৃত আইনি কাঠামো ইতোমধ্যেই রয়েছে। তবে ভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও জনমতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
দ্বিতীয়ত, স্কটল্যান্ড। এখানে স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক শক্তি অত্যন্ত সংগঠিত এবং নতুন গণভোটের খসড়া বিলও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে বিরোধই এখনো সবচেয়ে বড় বাধা। স্কটিশ সরকার রাজনৈতিকভাবে চাপ বাড়ালেও গণভোট আয়োজনের জন্য আইনি পথ এখনো নিশ্চিত নয়।
তৃতীয়ত, ওয়েলস। এখানে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন বাড়লেও সামগ্রিক জনমত এখনো স্বাধীনতার বিপক্ষে। সাম্প্রতিক জরিপে ৩২ শতাংশ সমর্থন এবং ৬৮ শতাংশ বিরোধিতা দেখায় যে নিকট ভবিষ্যতে ওয়েলসের স্বাধীনতার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন তৈরি হয়নি। তবে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের মাত্রা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে।
যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
১৪ সেপ্টেম্বরের কার্ডিফ বৈঠকের ফলে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ড কেউই যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যায়নি। কোনো স্বাধীনতা বা একীভূতকরণ গণভোটের তারিখও ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অন্য কারণে। যুক্তরাজ্যের তিন অঙ্গভূমির জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছে—তাদের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। তারা সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সংকেত দিয়েছে।
আগামী কয়েক বছর যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্কটল্যান্ডে প্রশ্ন হবে—লন্ডন কি নতুন স্বাধীনতা গণভোটের জন্য আইনি পথ খুলে দেবে? উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রশ্ন হবে—ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে জনমত কি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যাতে সীমান্ত গণভোটের দাবি আর উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে? আর ওয়েলসে প্রশ্ন হবে—স্বাধীনতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মের বাড়তে থাকা সমর্থন কি একসময় সামগ্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পরিণত হবে?
আর লন্ডনের সামনে থাকবে আরও মৌলিক একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন—একটি রাষ্ট্র কি তার বিভিন্ন অংশের রাজনৈতিক ইচ্ছাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করে একই কাঠামোয় টিকে থাকতে পারে? ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কার্ডিফ বৈঠক সেই প্রশ্নটিকেই আবার ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যুক্তরাজ্য আজও একক রাষ্ট্র হিসেবে অটুট। কিন্তু তার সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বাস্তব এবং রাজনৈতিকভাবে বেশি সংগঠিত।
যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে সহায়তা, রুশ ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক — ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়ার অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিটিবি ব্যাংকের (VTB Bank) বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) এ পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ভিটিবি ব্যাংককে ইরানের আর্থিক খাতে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করেছিল বলেও অভিযোগ করেছে ওএফএসি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে আর্থিক, প্রযুক্তিগত বা অন্যান্য সহায়তা দিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তা করে—এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সহযোগীদের শনাক্ত, প্রকাশ্যে চিহ্নিত এবং বিচ্ছিন্ন করার কথাও জানান তিনি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ভিটিবির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে নির্বাহী আদেশ ১৩৯০২-এর আওতায়। ওই আদেশের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, বিশেষ করে দেশটির আর্থিক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার আর্থিক খাতে কার্যক্রম এবং রুশ সরকারের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভিটিবির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকটি এখন ইরান ও রাশিয়া—দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়ল।
ইরানের সঙ্গে ভিটিবির ব্যাংকিং সম্পর্ক
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ভিটিবি ব্যাংক ইরানে তার কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় এবং দেশটির নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক ব্যাংকিং সম্পর্ক গড়ে তোলে।
ওয়াশিংটনের দাবি, ভিটিবি ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে রুশ রুবল ও ইরানি রিয়ালে পারস্পরিক লেনদেনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের জব্দ থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ স্থানান্তরের উদ্যোগেও ব্যাংকটির ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিটিবি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তেহরানে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’
ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ককে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রি, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা। মার্কিন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ইরানের পক্ষে অর্থ পাচার বা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তা করা যেকোনো প্রতিষ্ঠান মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ওয়াশিংটন আরও বলেছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাড়তি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করবে। ভিটিবির সঙ্গে যেসব বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখনো সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের সেই সম্পর্ক দ্রুত ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
ভিটিবির সম্পদ অবরুদ্ধ
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভিটিবি ব্যাংকের সব সম্পদ ও সম্পদ-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ অবরুদ্ধ হবে এবং সেগুলো সম্পর্কে ওএফএসিকে জানাতে হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা রাখলে সেই প্রতিষ্ঠানও সাধারণভাবে একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা কোনো নির্দিষ্ট ছাড় না থাকলে মার্কিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পদ, অর্থ বা সেবা নিয়ে লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নির্দিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে পরবর্তী পর্যায়ের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
সোমবারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ আরও বাড়াল ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বার্তাও স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র—ইরানের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ব্যবস্থায় সহায়তা করলে তার পরিণতি হতে পারে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতা।
বিশ্ব সংবাদ
ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে, নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার আহ্বান গুতেরেসের-শিব্বীর আহমেদ, নিউইয়র্ক — বিশ্বের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
রোববার নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় গুতেরেস বলেন, ১৯৪৫ সালের বিশ্বের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক, জনমিতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিবর্তন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোতেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
গুতেরেস বলেন, “আজকের অর্থনৈতিক, জনমিতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ১৯৪৫ সালের মতো নয়। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।”
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলোই বিশ্বে পরিবর্তিত ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতিচ্ছবি বলে উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, বিশ্ব ক্রমেই একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
গুতেরেসের মতে, বহুমেরুকেন্দ্রিকতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় আরও ভারসাম্য ও ন্যায্যতা আনতে পারে। তবে এর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং ব্রেটন উডস ব্যবস্থার আওতাধীন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কাঠামোতে সংস্কার আনতে হবে, যাতে সেগুলো বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন গুতেরেস—অর্থায়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং শান্তি।
উন্নয়ন অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে আরও “বড়, উন্নত ও সাহসী” ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, এই প্রযুক্তির সুফল এখনো অল্পসংখ্যক কোম্পানি ও কয়েকটি দেশের মধ্যে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এআইয়ের বৈষম্য বাড়তে থাকলে আয়, সুযোগ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব—সব ক্ষেত্রেই বৈষম্য আরও গভীর হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তীব্র তাপপ্রবাহ, হিমবাহের দ্রুত গলন, ভয়াবহ দাবানল ও বিধ্বংসী বন্যাকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকটের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ব যখন শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতার সীমার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে, তখন শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ধনী দেশগুলোকে তাদের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়ে গুতেরেস অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য আরও বেশি সহায়তার ওপর জোর দেন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন এবং সম্পদ লুটপাট বন্ধের আহ্বান জানান।
শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুতেরেস গাজা, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও সুদানের সংঘাতের কথা তুলে ধরেন। তিনি দেশগুলোর প্রতি জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। এর মধ্যে রয়েছে সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারকে উদীয়মান শক্তিগুলোর প্রতি কোনো ছাড় হিসেবে না দেখে সব দেশের যৌথ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান গুতেরেস।
তিনি বলেন, বিশ্ব যখন অপরিবর্তনীয়ভাবে একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে এমন একটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা শক্তিশালী ও সুরক্ষিত করতে সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যা সবার জন্য কার্যকর হয়।
ভারতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বের প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর নেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ছিল সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্পের ৯/১১ স্মরণ, $৫,০০০ ডিভিডেন্ড প্রস্তাব-শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি — যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানদের জন্য প্রস্তাবিত $৫,০০০ ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’, প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য $৫০০ ওবামাকেয়ার রিফান্ড এবং কানাডার পণ্যের ওপর নতুন বাণিজ্যিক পদক্ষেপ—চলতি সপ্তাহে এসব বিষয় হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ১১ সেপ্টেম্বরকে ২০২৬ সালের ‘প্যাট্রিয়ট ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর এক দিন আগে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্টিল অ্যাক্রস আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে হামলায় নিহতদের এবং উদ্ধারকর্মীদের স্মরণ করা হয়।
১০ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেন। এতে রিপাবলিকানরা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে $৫,০০০ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প এই অর্থের উৎস হিসেবে শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন, আইনগত ভিত্তি এবং ফেডারেল বাজেটের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এ ধরনের অর্থ প্রদানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
একই সময়ে প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে জনপ্রতি $৫০০ করে রিফান্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া যোগ্য ব্যক্তিরা এই অর্থ পাবেন। রিফান্ড অক্টোবর থেকে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধও সপ্তাহজুড়ে আলোচনায় ছিল। ৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের পরিধি পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট কিছু কানাডীয় পণ্যের আমদানি সীমিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেয়। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ কানাডার পাল্টা শুল্ক ও মার্কিন পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের জবাব হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন একইসঙ্গে প্রবীণদের জন্য সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতে প্রবীণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয় রয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দুই বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা প্রকাশ করে। এতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জ্বালানি ও ওষুধের দামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জনের দাবি তুলে ধরা হয়। এসব পরিসংখ্যান প্রশাসনের নিজস্ব দাবি; সেগুলো স্বাধীন সরকারি ও অর্থনৈতিক তথ্যের সঙ্গে আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও ঐতিহাসিক মার্কিন স্থাপনা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নকশা ও সংরক্ষণ নিয়ে একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও জাতীয় স্থাপনাগুলোর নকশা ও সৌন্দর্যবিষয়ক মান উন্নয়ন।
এদিকে জাপানি বিয়ার কোম্পানি সাপ্পোরো কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু উৎপাদন স্থানান্তরের পরিকল্পনা জানিয়েছে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা কোম্পানি L3Harris প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার PAC-3 Missile Segment Enhancement কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চুক্তি পেয়েছে। হোয়াইট হাউস এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারণের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। এসব ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য, দেশীয় উৎপাদন, অভিবাসন, জ্বালানি ও অর্থনীতিকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে।