পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ২৩ বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সোমবার আফগান সীমান্তঘেঁষা দুর্গম খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশে বিমান হামলায় অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে এ এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে।
এদিকে পার্লামেন্টের বিরোধী দলের সদস্য ইকবাল আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী রাতে এই বিমান হামলা চালিয়েছে।
আফ্রিদি এএফপিকে বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর বিমানই গোলাবর্ষণ করেছে। তাদের গোলাবর্ষণেই ২৩ জন মারা গেছেন।’ তিরাহ শহরে অবস্থানরত এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, নিহতদের মধ্যে সাতজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে।
তিনি আরো জানান, তিরাহ পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এখানে একাধিক তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ঘাঁটি রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বহু হামলার ঘটনা ঘটেছে।
খাইবার পখতুনখোয়া পুলিশ জানায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রদেশটিতে মোট ৬০৫টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।
পেশোয়ারে অবস্থানরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এ অঞ্চলে টিটিপির ডজনেরও বেশি আস্তানা রয়েছে। সেখানে জঙ্গিরা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করে।
এদিকে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই হামলায় খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের তিরাহ ভ্যালির মাত্রে দারা গ্রামে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই বোমা হামলা চালিয়েছে বলে ভারতের গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। স্থানীয় সময় রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে এ হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো গ্রামটির ওপর টানা ৮টি এলএস-৬ বোমা নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


