ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিছু’ ধরনের অস্ত্রের মজুত কমে গেছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, এসব অস্ত্রের মজুত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণে আবার গড়ে তোলা হবে।
বিবিসি জানায়, টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম। তবে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থায় আছে বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেছে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র দ্রুত পূরণ করতে উৎপাদন ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার হামলার অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। জুলাইয়ের এক হিসাবে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণাকেন্দ্র (সিএসআইএস) জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কোন কোন অস্ত্রের মজুত কমেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারখানা তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন করে ১৮টি বড় অস্ত্র কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, নির্বাচনের পর যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে এবার তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর জনসমর্থন কমেছে বলে সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরস সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ১৭ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক সমর্থন করেছেন। বৃহত্তর অর্থনীতি পরিচালনায় তার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন ছিল ২৬ শতাংশ।
ট্রাম্প অবশ্য এসব জনমত জরিপকে ‘ভুয়া সংখ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। টাইমকে তিনি বলেন, তিনি কারও পক্ষে প্রচারণা চালালে ওই প্রার্থী জিতবেন বলে তিনি মনে করেন। তবে এটি ট্রাম্পের নিজের দাবি; জনমত জরিপের ফল এর চেয়ে ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।


